সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

শিক্ষার্থীর প্রার্থনা দৃষ্টান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ জুন, ২০২৫, ৩:০৭ পিএম
শিক্ষার্থীর প্রার্থনা দৃষ্টান্ত
46

নাটোরের লালপুরের গরীব ও মেধাবী রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী মোছা. প্রার্থনা খাতুন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কাজিপাড়া গ্রামের সুজন আলী ও জলি বেগম দম্পতির মেয়ে। বাবা সুজন আলী চট্টগ্রাম শহরে ফেরি করে ফল বিক্রি করেন। তিন সন্তানের মধ্যে প্রার্থনা বড়। সংসারের টানাপোড়েনে মেজ সন্তান সৌরভ আলী (১৪) পড়ালেখা করতে পারেনি। ছোট ছেলে শওকত (৫) এখনো বিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করেনি।

প্রতিবেশীদের আব্দুস সালাম জানান, সুজন আলীর জায়গাজমি নেই। বাবার জমিতে তিনি টিনের ঘর করে বসবাস করেন। চট্টগ্রাম শহরে ফেরি করে ফল বিক্রি করেন। মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসেন। স্ত্রী জলি বেগমই স্বামীর পাঠানো সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে কোনোমতে সংসার সামলান। তবে মেয়ে প্রার্থনার প্রতি তাঁর মনোযোগ বেশি। লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে প্রার্থনা জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে তাঁকে পাবনা সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি করা হয়। অর্থের অভাবে সেখানে পড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিনা পয়সায় প্রাইভেট পড়িয়ে সেই কঠিন পথ সহজ করে দিয়েছেন পাবনা সরকারি মহিলা কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আলী আজমল।

প্রার্থনা খাতুন বলেন, উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম বর্ষে ফেল করায় আমার পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। প্রাইভেট পড়ার আর্থিক সামর্থ্য ছিল না। ক্লাসে পদার্থবিদ্যা তেমন একটা বুঝতেও পারতেন না। একাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যা বিষয়ে অকৃতকার্য হন। এমন অবস্থায় কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক আলী আজমল স্যার বিনা পারিশ্রমিকে এক বছর স্যার প্রাইভেট না পড়ালে হয়তো এ জায়গায় আসা যেত না। আমি স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ। দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষায় ভালো ফল করেন। এরপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। আমি আমার আব্বা-আম্মার প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁরা মনেপ্রাণে চান, আমি যেন ডাক্তার হই। মা ও দাদি হৃদ্রোগে আক্রান্ত। আমি ডাক্তারি পড়ে হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ হতে চাই। আমি মানবিক ডাক্তার হতে চাই। কিন্তু অর্থাভাবে ভর্তি ও পড়ালেখার খরচ বহন করা নিয়ে তাঁর পরিবার অনিশ্চয়তায় পড়ে যান। অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তার পড়াশুনায় আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসায় ধন্যবাদ জানান। সেইসাথে আল্লাহ তাআলার প্রতি শুকরিয়া জানান।

মা জলি বেগম বলেন, পড়ালেখায় ভালো হওয়ায় প্রার্থনার বিয়ের কথা ভাবেননি। শত কষ্টের মধ্যেও মেয়ের পড়ালেখা খরচ চালিয়েছেন। এবার মেয়ে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার খবরে খুশিতে কেঁদেছেন। মেয়ের বাবা চট্টগ্রাম থেকে ফোন করে আনন্দে কেঁদে ফেলেন। মেয়েকে মেডিকেলে পড়ালেখার খরচ চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কীভাবে এত খরচ চালাবেন, বুঝতে পারছিলেন না। অনেকে সহযোগিতা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়ায় নিশ্চিন্ত হয়েছি। গরীবের সহায়তা করায় আল্লাহ তাআলা তাদের ভালো করবেন ইনশাআল্লাহ।

ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রঞ্জু বলেন, প্রার্থনার মা বাড়িতে মুরগি-ছাগল পালন করে এবং মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে মেয়েকে পড়িয়েছেন। সেই মেয়ে এবার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার পাশে আমরা সবাই আছি। তার সহযোগিতায় যারা এগিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৫৭ এম
জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের সেবায় খুশি কলাপাড়ার সেবাগ্রহীতাগণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৩২ পিএম
সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের সেবায় খুশি কলাপাড়ার সেবাগ্রহীতাগণ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : কলাপাড়া উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সেবায় দিন দিন বাড়ছে সাধারণ মানুষের সন্তুষ্টি। দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম সেবাগ্রহীতাদের যথাসময়ে সেবা প্রদানের মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ ছিল— আগে দলিল নিবন্ধন, খতিয়ান যাচাই বা জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্রে অযথা দেরি হতো। কিন্তু বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমে এসেছে। তিনি অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থেকে নিজে তদারকি করছেন প্রতিটি কাজ।
একজন সেবাগ্রহীতা রিফাত হোসেন বলেন, “আগে একটি দলিল রেজিস্ট্রেশনে অনেক সময় লেগে যেত। এখন খুব দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে কাজ শেষ হচ্ছে। কর্মকর্তা নিজে আমাদের সাথে কথা বলেন এবং সমস্যার সমাধান করে দেন।”

নতুন অফিস ও দ্রুত সেবা কার্যক্রম:

বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের পর তার হাত ধরে কলাপাড়ায় চালু হয়েছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন অফিস। এখানে সহজ ও দ্রুত পদ্ধতিতে দলিল যাচাই, রেজিস্ট্রেশন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ এখন আগের তুলনায় দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে সেবা পাচ্ছেন।

একজন সেবাগ্রহীতা বলেন, “নতুন অফিসে এসে বুঝতে পারছি কাজ কতটা সহজ হয়েছে, সিস্টেমে দ্রুত কাগজপত্র তৈরি হয়ে যাচ্ছে, অতিরিক্ত ঝামেলা নেই।”

অন্য একজন জানান, “আগে দিনকে দিন ঘুরতে হতো। এখন একদিনেই কাজ শেষ হয়। সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব সবসময় আমাদের কথা শুনেন এবং সাহায্য করেন।”
অন্য একজন প্রবীণ নাগরিক ফুয়াদ হাসান জানান, “আমরা যে সেবা পাওয়ার কথা, তা এখন সহজে পাচ্ছি। সাব-রেজিস্ট্রার সাহেবের ব্যবহারও অত্যন্ত ভদ্র ও আন্তরিক।”
স্থানীয়দের মতে, দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম শুধু সেবাগ্রহীতাদের আস্থা অর্জন করেননি, বরং সরকারি সেবা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়াচ্ছেন।

বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা 

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫, ৩:২০ পিএম
বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা 

বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির (বাকসাস) কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫-২৬) ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক কালবেলার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি এইচ এম সাইফুল ইসলাম সাব্বির ও সাধারণ সম্পাদক মানবজমিনের শিহাব আল নাসিম।

শুক্রবার (২৭ জুন) বাকসাস’র উপদেষ্টা পরিষদ এই কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন করে। এতে সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক সকালের সময়ের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মেহেদী হাসান তাওহীদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজকের কাগজের জিসান আহমেদ কাব্য, সাংগঠনিক সম্পাদক সময়ের কণ্ঠস্বরের এস এম মঈন এবং অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সংগ্রাম প্রতিদিনের আরমানুজ্জামান সৈকত।

এ ছাড়াও কমিটিতে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেইলি ক্যাম্পাসের কাজী আল তাজরীমিন, মানবতার কণ্ঠের রাসেল রানা ও দৈনিক সংগ্রাম প্রতিদিনের শান্তা আক্তার।

আগামী এক বছরের জন্য কার্যনির্বাহী এই কমিটি অনুমোদন করেন বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ও আজকের পত্রিকার সিনিয়র অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক আমানুর রহমান রনি, মোহনার টেলিভিশনের প্রধান প্রতিবেদক এবং বাকসাস’স প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উপদেষ্টা মো. মনিরুল ইসলাম, বাকসাস’র সাবেক সভাপতি এবং এখন টেলিভিশনের অ্যাসিসট্যান্ট নিউজ এডিটর মো. নাজমুল হোসেন এবং বাকসাস’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কালবেলার নিজস্ব প্রতিবেদক (অনুসন্ধান) জাফর ইকবাল।