রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

কুয়াকাটায় আশ্রায়ণপ্রকল্পের ঘরে ঠাই হয়নি প্রকৃত গৃহহীনদের।

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ মে, ২০২৫, ৩:২৭ পিএম
কুয়াকাটায় আশ্রায়ণপ্রকল্পের ঘরে ঠাই হয়নি প্রকৃত গৃহহীনদের।
46

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
সারা দেশের ন্যায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় এলাকায় আওয়ামী সরকারের আমলে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের মাথা গোজার জন্য মুজিব শর্তবর্ষের উপহার হিসেবে আশ্রায়ণপ্রকল্পের
মাধ্যমে দেয়া হয়েছে ঘর। অথচ কুয়াকাটা উপকূল এলাকার এসব ঘরে ঠাই হয়নী অধিকাংশ প্রকৃত ভূমিহীনদের। যারা ঘর পেয়েছেন তারা অনেকেই থাকছেনা এসব ঘরে, এমন অভিযোগ অনেকের।

অভিযোগে জানাযায়, কতিপয় অসাধু লোক নিজেদের আখের গোছাতে মরিয়া হয়ে আইনের তোয়াক্কা না করে উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সংশ্লিষ্ট প্রকৃত গৃহহীন ও ভূমিহীনদেরকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে তাদেরকে বঞ্চিত করে করেছেন আত্মীয় করন ও দলীয় করন।

সরেজমিন, কুয়াকাটার নয়াপাড়া আবাসন প্রকল্পের ৬৪ টি ঘরের মধ্যে আটটি ঘর শুরু থেকে তালাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেসব ঘরের তালা খুলে অন্য লোক উঠানো হয়েছে। সেখানেও উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লোক উঠানোর অভিযোগ রয়েছে। 

নয়াপাড়া আবাসনে বর্তমানে ৬৪ নম্বর ঘরে সালমা দম্পতি থাকেন। তারা এই এলাকার বাসিন্দা নয়। তার বাবার বাড়ি পাথরঘাটা এবং স্বামীর বাড়ি ঢাকায়। বাবা এবং স্বামীর ঠিকানার কোথাও তার জাতীয় পরিচয়পত্র হয়নি। তাহলে কিভাবে নাম ঠিকানা বিহীন অপরিচিত লোক আশ্রায়ণপ্রকল্পের ঘর পেলো এ প্রশ্ন জনমনে। এমনকি সালমার স্বামী মাদক মামলার সাজা প্রাপ্ত আসামী হওয়ায় সে বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন। নাম ঠিকানা বিহীন অপরিচিত লোক থাকার সুযোগ করে দেয়ায় কিছুদিন পর তার আসল পরিচয় পাওয়া গেল। সে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামী। বর্তমানে ওই ঘরটি খালি রয়েছে। 

এছাড়া ৫৩ নম্বর ঘরের প্রকৃত মালিক কচ্ছপখালী গ্রামের মকবুল ফকিরের ছেলে শহিদ ফকির। সে তার নামের বরাদ্ধকৃত ঘরটি কুষ্টিয়ার জীবন নামের এক লোকের কাছে বিক্রি দিয়ে তিনি থাকেন তার নিজ বাড়ি কচ্ছপখালী। ৫২ নম্বর ঘরটির প্রকৃত মালিক আলাউদ্দিন তিনি ঘরটি বিক্রি করে দিয়েছেন ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় জহিরুল নামের একজনের কাছে। ৪১ নম্বর ঘরের প্রকৃত মালিক নুর হোসেন। তার ঘরটি বিক্রি করে দিয়েছেন সুমন নামের একজনের কাছে। অথচ সুমন সেও ওই ঘরে থাকেনা। থাকেন তার বোন মুক্তা ও মুক্তার পরিবার। ৪০ নম্বর ঘরের প্রকৃত মালিক নয়াপাড়া গ্রামের অতুল চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে দুলাল বিশ্বাস। তিনি দিনের বেলায় মাঠে কাজ কর্ম করেন এবং তার স্ত্রী বাবা মার দেখাশুনা করেন। রাতে তাদের নামের বরাদ্ধকৃত ঘরে রাতযাপন করেন। কিন্তু দুলালের সে ঘরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম দুলালের অবর্তমানে তালা ভেঙ্গে মালামাল বাহিরে ফেলে কুয়াকাটার রেজাউল নামের একজনকে উঠিয়ে দেন।

দুলাল বলেন, দীর্ঘ বছর আমার বাবা নয়াপাড়া এলাকায় বাড়ি-ঘর তৈরী করে বসবাস করে আসছেন। তখন এ এলাকায় তেমন কোন বসতি ছিলনা। আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে বাবার সাথে যৌথ পরিবারেই বসবাস করে আসছি। বড়ই পরিতাপের বিষয় আমার দু’টি সন্তান মৃত্যু বরণ করায় আমাদের বাড়ির সামনে তাদের রাখা হয়েছে। তখন এখানে কোন ঘর বাড়ি ছিল না। যখন আশ্রায়ণপ্রকল্প’র ঘর তৈরী করা হয় তখন জমির পরিমাপ করে দেখা যায় আমার সন্তানের কবর সরকারের খাস খতিয়ানের মধ্যে পড়েছে। এটা জানার পরেও সেখানে আশ্রায়ণপ্রকল্পের ঘর উঠানো হয়েছে। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর স্যারকে অবহিত করায় স্যার আমার সন্তানদের কারণে ৪০ নম্বরের ওই ঘরটি আমার নামে বরাদ্ধ দেন। অতিব দুঃখের বিষয় বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম স্যার আমার অনুপস্থিতিতে ঘরের সকল মালামাল বাহিরে ফেলে অন্য লোক উঠিয়ে দেন।

অপরদিকে পটুয়াখালীর মহিপুর সদর ইউনিয়নের ইউসুফপুর মুজিব কেল্লা সংলগ্ন আশ্রায়ণপ্রকল্পে যে ঘরগুলো রয়েছে তার মধ্যে ৩৩ নম্বর ঘরটি এখনও তালাবদ্ধ রয়েছে। যার নামে ঘর রয়েছেন তিনি থাকেন অন্যত্র। তার নিজস্ব বাড়ি ঘর রয়েছে বলে জানাযায়। যেকারণে তিনি এখানে থাকেনা।

৪৩ নম্বর ঘরের মালিক আল আমিন, তিনিও এখানে থাকেনা, থাকেন খালাত ভাই পরিচয়ের সুমন নামের এক ব্যক্তি। ৩৫ নম্বর ঘরের প্রকৃত মালিক পপি, তিনি তার বরাদ্ধের ঘরটি বিক্রি দিয়েছেন হনুফা নামের একজনের কাছে।

এছাড়া মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন ২৭ নম্বর ঘরের মালিক আলমগীর, তিনি এখানে না থেকে সে ঘরটি এক অটো গাড়ির চালকের কাছে ভাড়া দিয়েছেন, যদিও অটোচালক ভাড়ার কথা অস্বিকার করে বলেন, তিনি এমনিতেই থাকেন। প্রশ্ন হলো যার নামে ঘর তার যদি ঘরের প্রয়োজন হত তাহলে সেখানে অন্য লোক থাকবে কেন।

জানাযায়, যাদের নামে আশ্রায়ণপ্রকল্পের ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে তাদের অনেকেরই এসব ঘরের প্রয়োজন নেই, তারা ওই সকল ঘর গোপনে গোপনে নিজেদের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন।

এবিষয় মহিপুর আশ্রায়ণ প্রকল্প-২, সমবায় সমিতি লি: এর সভাপতি মো: সোহরাফ হোসেন বলেন, এখানে কয়েকটি ঘরে শুরু থেকেই লোক থাকে না এবং কিছু ঘরে মালিকের পরিবর্তে তার স্বজন থাকেন, এখন তারা প্রকৃক ভূমিহীন কিনা আমি জানি না।

এব্যাপারে মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: ফজলু গাজী বলেন, ঘরের এমন বিষয় আমার কাছে কোন খোজ খবর নাই, তবে আমি বিষয়টি তদন্ত করে জেনে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিব।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রবিউল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে আমরা জেনেছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তাং- ১৯.০৫.২০২৫ ইং

জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৫৭ এম
জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের সেবায় খুশি কলাপাড়ার সেবাগ্রহীতাগণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৩২ পিএম
সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের সেবায় খুশি কলাপাড়ার সেবাগ্রহীতাগণ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : কলাপাড়া উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সেবায় দিন দিন বাড়ছে সাধারণ মানুষের সন্তুষ্টি। দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম সেবাগ্রহীতাদের যথাসময়ে সেবা প্রদানের মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ ছিল— আগে দলিল নিবন্ধন, খতিয়ান যাচাই বা জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্রে অযথা দেরি হতো। কিন্তু বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমে এসেছে। তিনি অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থেকে নিজে তদারকি করছেন প্রতিটি কাজ।
একজন সেবাগ্রহীতা রিফাত হোসেন বলেন, “আগে একটি দলিল রেজিস্ট্রেশনে অনেক সময় লেগে যেত। এখন খুব দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে কাজ শেষ হচ্ছে। কর্মকর্তা নিজে আমাদের সাথে কথা বলেন এবং সমস্যার সমাধান করে দেন।”

নতুন অফিস ও দ্রুত সেবা কার্যক্রম:

বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের পর তার হাত ধরে কলাপাড়ায় চালু হয়েছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন অফিস। এখানে সহজ ও দ্রুত পদ্ধতিতে দলিল যাচাই, রেজিস্ট্রেশন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ এখন আগের তুলনায় দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে সেবা পাচ্ছেন।

একজন সেবাগ্রহীতা বলেন, “নতুন অফিসে এসে বুঝতে পারছি কাজ কতটা সহজ হয়েছে, সিস্টেমে দ্রুত কাগজপত্র তৈরি হয়ে যাচ্ছে, অতিরিক্ত ঝামেলা নেই।”

অন্য একজন জানান, “আগে দিনকে দিন ঘুরতে হতো। এখন একদিনেই কাজ শেষ হয়। সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব সবসময় আমাদের কথা শুনেন এবং সাহায্য করেন।”
অন্য একজন প্রবীণ নাগরিক ফুয়াদ হাসান জানান, “আমরা যে সেবা পাওয়ার কথা, তা এখন সহজে পাচ্ছি। সাব-রেজিস্ট্রার সাহেবের ব্যবহারও অত্যন্ত ভদ্র ও আন্তরিক।”
স্থানীয়দের মতে, দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম শুধু সেবাগ্রহীতাদের আস্থা অর্জন করেননি, বরং সরকারি সেবা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়াচ্ছেন।

বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা 

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫, ৩:২০ পিএম
বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা 

বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির (বাকসাস) কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫-২৬) ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক কালবেলার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি এইচ এম সাইফুল ইসলাম সাব্বির ও সাধারণ সম্পাদক মানবজমিনের শিহাব আল নাসিম।

শুক্রবার (২৭ জুন) বাকসাস’র উপদেষ্টা পরিষদ এই কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন করে। এতে সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক সকালের সময়ের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মেহেদী হাসান তাওহীদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজকের কাগজের জিসান আহমেদ কাব্য, সাংগঠনিক সম্পাদক সময়ের কণ্ঠস্বরের এস এম মঈন এবং অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সংগ্রাম প্রতিদিনের আরমানুজ্জামান সৈকত।

এ ছাড়াও কমিটিতে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেইলি ক্যাম্পাসের কাজী আল তাজরীমিন, মানবতার কণ্ঠের রাসেল রানা ও দৈনিক সংগ্রাম প্রতিদিনের শান্তা আক্তার।

আগামী এক বছরের জন্য কার্যনির্বাহী এই কমিটি অনুমোদন করেন বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ও আজকের পত্রিকার সিনিয়র অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক আমানুর রহমান রনি, মোহনার টেলিভিশনের প্রধান প্রতিবেদক এবং বাকসাস’স প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উপদেষ্টা মো. মনিরুল ইসলাম, বাকসাস’র সাবেক সভাপতি এবং এখন টেলিভিশনের অ্যাসিসট্যান্ট নিউজ এডিটর মো. নাজমুল হোসেন এবং বাকসাস’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কালবেলার নিজস্ব প্রতিবেদক (অনুসন্ধান) জাফর ইকবাল।