শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

উপকূলীয় জেলেদের আশ্রয়স্থল খাপড়াভাঙ্গা নদী দিনে দিনে সংকুচিত হচ্ছে

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি/এস আর প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫, ৬:৫৯ পিএম
উপকূলীয় জেলেদের আশ্রয়স্থল খাপড়াভাঙ্গা নদী দিনে দিনে সংকুচিত হচ্ছে
44

পটুয়াখালীর মহিপুরের ঐতিহ্যবাহী খাপড়াভাঙ্গা নদী দখল ও দূষণের করালগ্রাসে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। একসময় এই নদী ছিল উপকূলীয় জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। দুর্যোগকালীন সময়ে হাজারো মাছ ধরার ট্রলার এই নদীতে এসে নিরাপদ আশ্রয় নিত। তবে বর্তমানে নদীটির চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দুই তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা, স্থানীয়দের অবহেলা, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক তদারকির অভাবে নদীটি যেন পরিণত হয়েছে বর্জ্যের ভাগাড়ে।

খাপড়াভাঙ্গা নদী মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য বন্দরের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে বহুদিন ধরে এই অঞ্চলের মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। নদীর প্রশস্ততা ও গভীরতা একসময় নৌযান চলাচলের জন্য উপযুক্ত থাকলেও, এখন নদীর দুই তীরে প্রতিনিয়ত ফেলা হচ্ছে পলিথিন, প্লাস্টিক, ছেঁড়া জাল, পচা মাছ এবং দোকানপাটের নানা ধরনের বর্জ্য। এছাড়া আন্ধারমানিক নদীর মুখে পলি জমে চর তৈরি হয়েছে। এর ফলে নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আরেকদিকে নদীর দুই পাড়ে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী গড়ে তুলেছে অবৈধ স্থাপনা। এতে নদী সংকুচিত হয়ে শুধু মৎস্যজীবীদের চলাচলেই বাধা সৃষ্টি হচ্ছে না, বরং জলজ প্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও জলজ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় জেলে আব্দুস সালাম বলেন, ‘আগে আমরা অনায়াসে ২টি বড় মাছের ট্রলার পাশাপাশি একসঙ্গে যেতে পারতাম। এখন একটার পাশ দিয়েই আরেকটা যেতে সমস্যা হয়। নদীটি এখন অনেকটা সরু ও ভরাট হয়ে গেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম মুন্সি বলেন, ‘খাপড়াভাঙ্গা নদী আমাদের জীবনের অংশ। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি এই নদীতে কত ট্রলার, নৌকা নিরাপদ আশ্রয় নিত। এখন নদীটি অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। চারপাশে শুধু ময়লা আর দখলদারদের দাপট। দেখার যেন কেউ নেই। প্রশাসনের নজরদারি না বাড়ালে এই নদী হয়তো আর বেশিদিন টিকবে না।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খাপড়াভাঙ্গা নদীকে রক্ষা করতে হলে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা, খনন কার্যক্রম, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয়দের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় ঐতিহ্যবাহী এই নদীটি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি। যার প্রভাব কেবল পরিবেশ বা নদীর ওপরই নয়, বরং পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের পুরো মৎস্য খাতেই পড়বে। এর ফলে ঝুঁকিতে পড়বে হাজার হাজার জেলে পরিবার ও দেশের সামুদ্রিক মৎস্য সরবরাহ ব্যবস্থা। তার সঙ্গে হারিয়ে যাবে হাজারো জেলের স্বপ্ন, হুমকির মুখে পড়বে সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্য অর্থনীতি।

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা কুয়াকাটাবাসীর সভাপতি হাফিজুর রহমান আকাশ বলেন, ‘খাপড়াভাঙ্গা নদী শুধু মৎস্যজীবীদের জন্য নয়, দেশের সামুদ্রিক মৎস্য খাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এখনই যদি আমরা সচেতন না হই, তাহলে এটি একদিন সম্পূর্ণ হারিয়ে যাবে।’

পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা’র সমন্বয়ক মেজবাহউদ্দিন মাননু বলেন, ‘নদীটি দখল ও দূষণে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দূষণ রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সীমানা নির্ধারণপূর্বক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এখনই জরুরি। নইলে নদী রক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না বা নেওয়া হবে কি না— জানতে চাইলে দায়সারা বক্তব্য দেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নদীটির নাব্যতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে।’

জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৫৭ এম
জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের সেবায় খুশি কলাপাড়ার সেবাগ্রহীতাগণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৩২ পিএম
সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের সেবায় খুশি কলাপাড়ার সেবাগ্রহীতাগণ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : কলাপাড়া উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সেবায় দিন দিন বাড়ছে সাধারণ মানুষের সন্তুষ্টি। দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম সেবাগ্রহীতাদের যথাসময়ে সেবা প্রদানের মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ ছিল— আগে দলিল নিবন্ধন, খতিয়ান যাচাই বা জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্রে অযথা দেরি হতো। কিন্তু বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমে এসেছে। তিনি অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থেকে নিজে তদারকি করছেন প্রতিটি কাজ।
একজন সেবাগ্রহীতা রিফাত হোসেন বলেন, “আগে একটি দলিল রেজিস্ট্রেশনে অনেক সময় লেগে যেত। এখন খুব দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে কাজ শেষ হচ্ছে। কর্মকর্তা নিজে আমাদের সাথে কথা বলেন এবং সমস্যার সমাধান করে দেন।”

নতুন অফিস ও দ্রুত সেবা কার্যক্রম:

বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের পর তার হাত ধরে কলাপাড়ায় চালু হয়েছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন অফিস। এখানে সহজ ও দ্রুত পদ্ধতিতে দলিল যাচাই, রেজিস্ট্রেশন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ এখন আগের তুলনায় দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে সেবা পাচ্ছেন।

একজন সেবাগ্রহীতা বলেন, “নতুন অফিসে এসে বুঝতে পারছি কাজ কতটা সহজ হয়েছে, সিস্টেমে দ্রুত কাগজপত্র তৈরি হয়ে যাচ্ছে, অতিরিক্ত ঝামেলা নেই।”

অন্য একজন জানান, “আগে দিনকে দিন ঘুরতে হতো। এখন একদিনেই কাজ শেষ হয়। সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব সবসময় আমাদের কথা শুনেন এবং সাহায্য করেন।”
অন্য একজন প্রবীণ নাগরিক ফুয়াদ হাসান জানান, “আমরা যে সেবা পাওয়ার কথা, তা এখন সহজে পাচ্ছি। সাব-রেজিস্ট্রার সাহেবের ব্যবহারও অত্যন্ত ভদ্র ও আন্তরিক।”
স্থানীয়দের মতে, দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম শুধু সেবাগ্রহীতাদের আস্থা অর্জন করেননি, বরং সরকারি সেবা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়াচ্ছেন।

বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা 

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫, ৩:২০ পিএম
বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা 

বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির (বাকসাস) কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫-২৬) ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক কালবেলার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি এইচ এম সাইফুল ইসলাম সাব্বির ও সাধারণ সম্পাদক মানবজমিনের শিহাব আল নাসিম।

শুক্রবার (২৭ জুন) বাকসাস’র উপদেষ্টা পরিষদ এই কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন করে। এতে সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক সকালের সময়ের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মেহেদী হাসান তাওহীদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজকের কাগজের জিসান আহমেদ কাব্য, সাংগঠনিক সম্পাদক সময়ের কণ্ঠস্বরের এস এম মঈন এবং অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সংগ্রাম প্রতিদিনের আরমানুজ্জামান সৈকত।

এ ছাড়াও কমিটিতে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেইলি ক্যাম্পাসের কাজী আল তাজরীমিন, মানবতার কণ্ঠের রাসেল রানা ও দৈনিক সংগ্রাম প্রতিদিনের শান্তা আক্তার।

আগামী এক বছরের জন্য কার্যনির্বাহী এই কমিটি অনুমোদন করেন বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ও আজকের পত্রিকার সিনিয়র অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক আমানুর রহমান রনি, মোহনার টেলিভিশনের প্রধান প্রতিবেদক এবং বাকসাস’স প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উপদেষ্টা মো. মনিরুল ইসলাম, বাকসাস’র সাবেক সভাপতি এবং এখন টেলিভিশনের অ্যাসিসট্যান্ট নিউজ এডিটর মো. নাজমুল হোসেন এবং বাকসাস’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কালবেলার নিজস্ব প্রতিবেদক (অনুসন্ধান) জাফর ইকবাল।