রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

আ.লীগ সরকারের সাবেক দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর আশীর্বাদ পুষ্ট শাহিন মৃধার অঢেল সম্পদ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ মে, ২০২৫, ৭:০৭ পিএম
আ.লীগ সরকারের সাবেক দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর আশীর্বাদ পুষ্ট শাহিন মৃধার অঢেল সম্পদ
51

আওয়ামীলীগ শাসনামলের ১৫ বছরে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন বিএনপি নেতা শাহিন মৃধা। কিন্তু ৫ আগষ্টের পর তিনি নিজেকে বিএনপি’র ডাক সাইটের নেতা দাবি করেন। তৃণমূল বিএনপি’র একজন নেতা হয়েও আওয়ামীলীগের শেল্টারে গত ১৫ বছরে তিনি বনে যান অঢেল অর্থ সম্পদের মালিক। আয় কর বিভাগ সহ দুদক তার এ বিপুল অর্থ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে কখনও অনুসন্ধান করেনি। এমনকি প্রতারণার একাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা, মাল ক্রোকের আদেশ সহ পলাতক হিসেবে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও রহস্যজনক কারণে তিনি গ্রেফতার হননি।

জানা যায়, আওয়ামীলীগ সরকারের সাবেক দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিবুবুর রহমানের আশীর্বাদ পুষ্ট ছিলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর ছত্র ছায়ায় পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন মরিচ বুনিয়া গ্রামে গড়ে তোলেন মিফতা ট্রেডার্স নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সাবেক প্রতিমন্ত্রীর শেল্টারে একাধিক বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সই করে কয়লা সার্ভিস জেটি ঘাট নির্মাণ সহ আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করতে কোটি কোটি টাকা অগ্রিম নেন শাহিন। এরপর ক্রমশ: তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আসা জাহাজ থেকে কয়লা আনলোডিং, জেটিঘাট নিয়ন্ত্রণ সহ শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মিফতা ট্রেডার্স আলোচনায় উঠে আসে। বিদেশী জাহাজে আসা মূল্যবান পন্য সামগ্রী লাইটার জাহাজে তার সার্ভিস জেটি ঘাটে আনলোড করে প্রতারণা শুরু করেন বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে। আত্মসাৎ করেন কোটি কোটি টাকা মূল্যের মালামাল।

সূত্র জানায়, চট্রগ্রামের সালাম মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. আনিস উদ্দীনের ৭০ টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ক্রেন গাড়ী মাসিক ৬ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা চুক্তিতে ভাড়া নেন বিএনপি নেতা শাহিন মৃধা। এতে ভাড়া বাবদ তার কাছে অনিসের পাওনা হয় ৪২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। বারংবার ভাড়া টাকা চেয়েও না পাওয়ায় ভুক্তভোগী আনিস ৫ আগষ্ট ২০২২ শাহিনের মিফতা ট্রেডার্সে এসে ভাড়া টাকা সহ ক্রেনটি ফেরত চাওয়ায় শাহিন মৃধা ভাড়া টাকা তো দূরের কথা ক্রেন গাড়ীটিও ফেরত না দিয়ে তার মাস্তান বাহিনী লেলিয়ে দেয়। অত:পর আনিস উদ্দীন ৮ আগষ্ট ২০২২ শাহিনকে আসামী করে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে (সিআর-১০৪২/২২) মামলা আনয়ন করেন।

সূত্রটি আরও জানায়, চট্রগ্রামের জেএসি শিপিং লাইন্সের সাথে পন্য আনলোড, সংরক্ষন ও পরিবহন সংক্রান্ত কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন বিএনপি নেতা শাহিন মৃধা। এজন্য সার্ভিস জেটি নির্মানের জন্য শিপিং লাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি ৮২ লক্ষ টাকা অগ্রিম নেন। এরপর শিপিং লাইন্সটির লাইটার জাহাজে আসা ২১০০ পিচ পাইপ পাইলের মধ্য থেকে ৫০০ পিচ পাইপ পাইল, যার আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৬৫ লক্ষ ২ হাজার ১৯৫ টাকা, শাহিন মৃধা অন্যত্র পাচার করে সমুদয় টাকা আত্মসাত করেন।  এ ঘটনায় শিপিং লাইন্সটির ম্যানেজার ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে ১মার্চ ২০২৩ কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে প্রতারনা ও আত্মসাতের অভিযোগে (সিআর-১৯৩/২৩) মামলা করেন।

সূত্রটি জানায়, কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামের মো. নাছিম খানের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা লভ্যাংশ প্রদানের শর্তে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ধার নেন শাহিন। অত:পর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দীর্ঘদিনেও পরিশোধ না করে আত্মসাত করেন শাহিন। ভুক্তভোগী নাছিম খান ১২ এপ্রিল ২০২৪ আদালতের (মামলা নম্বর-সিআর-৩৫৭/২৩) দ্বারস্থ হন। এভাবে সিরিজ প্রতারণা ও আত্মসাতের মধ্য দিয়েই শাহিন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যায়। ছেলে মেয়ে কে লন্ডনে পাঠিয়ে যেকোনো সময় নিজেও উড়াল দিতে পারেন বলে দাবি সূত্রটির।

এদিকে ১৩ মে ২০২৫ আধিপত্য বিস্তার ও  তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সার্ভিস জেটি ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শাহিন মৃধার মিফতা ট্রেডার্সে হামলা, অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শাহীন মৃধা ১৪ মে স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম মহসিন তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ২১ জন বিএনপি নেতা-কর্মীর নামে থানায় মামলা করেন। মামলায় আরও ৭০-৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়। ২২ মে ২০২৫ উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় ফেরারী শাহিন মৃধা’র বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের নিয়ে পুলিশের সমালোচনা করে বিএনপি।   

ধানখালী ইউনিয়ন বিএনপি’র সম্পাদক মো. ফিরোজ তালুকদার বলেন, শাহিন মৃধা বিলুপ্ত লালুয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।’ উপজেলা বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ নেতা কে এম জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে তার বিরুদ্ধে অগনিত মানুষের সাথে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন সংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। তার একটা নিজস্ব বাহিনী রয়েছে। তার ব্যক্তিগত মিফতা ট্রেডার্স অফিসটি একটি মিনি বার। সেখানে মদ, গাঁজা, ইয়াবা সেবন চলে।’

উপজেলা বিএনপি’র সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, ‘শাহিন মৃধা বিএনপি’র কেউ না, আওয়ামী লীগের দোসর। সম্প্রতি এ ফেরারী আসামি আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন।’ হাফিজুর রহমান চুন্নু আরও বলেন, ‘পুলিশের সখ্যতায় ফেরারী আসামি হয়েও গ্রেফতার  হচ্ছেন না তিনি।’

এ বিষয়ে শাহিন মৃধার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

কলাপাড়া থানার ওসি মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের সাথে শাহিন মৃধার সখ্যতা আছে বললে তো হবে না, প্রমাণ দিতে হবে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।’ ওসি আরও বলেন, ‘আইন শৃংখলা সভায় এ বিষয়টি যিনি উত্থাপন করেছেন তার বোন জামাইয়ের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারী পরোয়ানা আছে। আমরা কাউকে ছাড় দেবো না।’

জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৫৭ এম
জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের সেবায় খুশি কলাপাড়ার সেবাগ্রহীতাগণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৩২ পিএম
সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের সেবায় খুশি কলাপাড়ার সেবাগ্রহীতাগণ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : কলাপাড়া উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সেবায় দিন দিন বাড়ছে সাধারণ মানুষের সন্তুষ্টি। দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম সেবাগ্রহীতাদের যথাসময়ে সেবা প্রদানের মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ ছিল— আগে দলিল নিবন্ধন, খতিয়ান যাচাই বা জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্রে অযথা দেরি হতো। কিন্তু বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমে এসেছে। তিনি অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থেকে নিজে তদারকি করছেন প্রতিটি কাজ।
একজন সেবাগ্রহীতা রিফাত হোসেন বলেন, “আগে একটি দলিল রেজিস্ট্রেশনে অনেক সময় লেগে যেত। এখন খুব দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে কাজ শেষ হচ্ছে। কর্মকর্তা নিজে আমাদের সাথে কথা বলেন এবং সমস্যার সমাধান করে দেন।”

নতুন অফিস ও দ্রুত সেবা কার্যক্রম:

বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের পর তার হাত ধরে কলাপাড়ায় চালু হয়েছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন অফিস। এখানে সহজ ও দ্রুত পদ্ধতিতে দলিল যাচাই, রেজিস্ট্রেশন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ এখন আগের তুলনায় দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে সেবা পাচ্ছেন।

একজন সেবাগ্রহীতা বলেন, “নতুন অফিসে এসে বুঝতে পারছি কাজ কতটা সহজ হয়েছে, সিস্টেমে দ্রুত কাগজপত্র তৈরি হয়ে যাচ্ছে, অতিরিক্ত ঝামেলা নেই।”

অন্য একজন জানান, “আগে দিনকে দিন ঘুরতে হতো। এখন একদিনেই কাজ শেষ হয়। সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব সবসময় আমাদের কথা শুনেন এবং সাহায্য করেন।”
অন্য একজন প্রবীণ নাগরিক ফুয়াদ হাসান জানান, “আমরা যে সেবা পাওয়ার কথা, তা এখন সহজে পাচ্ছি। সাব-রেজিস্ট্রার সাহেবের ব্যবহারও অত্যন্ত ভদ্র ও আন্তরিক।”
স্থানীয়দের মতে, দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম শুধু সেবাগ্রহীতাদের আস্থা অর্জন করেননি, বরং সরকারি সেবা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়াচ্ছেন।

বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা 

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫, ৩:২০ পিএম
বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা 

বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির (বাকসাস) কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫-২৬) ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক কালবেলার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি এইচ এম সাইফুল ইসলাম সাব্বির ও সাধারণ সম্পাদক মানবজমিনের শিহাব আল নাসিম।

শুক্রবার (২৭ জুন) বাকসাস’র উপদেষ্টা পরিষদ এই কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন করে। এতে সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক সকালের সময়ের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মেহেদী হাসান তাওহীদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজকের কাগজের জিসান আহমেদ কাব্য, সাংগঠনিক সম্পাদক সময়ের কণ্ঠস্বরের এস এম মঈন এবং অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সংগ্রাম প্রতিদিনের আরমানুজ্জামান সৈকত।

এ ছাড়াও কমিটিতে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেইলি ক্যাম্পাসের কাজী আল তাজরীমিন, মানবতার কণ্ঠের রাসেল রানা ও দৈনিক সংগ্রাম প্রতিদিনের শান্তা আক্তার।

আগামী এক বছরের জন্য কার্যনির্বাহী এই কমিটি অনুমোদন করেন বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ও আজকের পত্রিকার সিনিয়র অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক আমানুর রহমান রনি, মোহনার টেলিভিশনের প্রধান প্রতিবেদক এবং বাকসাস’স প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উপদেষ্টা মো. মনিরুল ইসলাম, বাকসাস’র সাবেক সভাপতি এবং এখন টেলিভিশনের অ্যাসিসট্যান্ট নিউজ এডিটর মো. নাজমুল হোসেন এবং বাকসাস’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কালবেলার নিজস্ব প্রতিবেদক (অনুসন্ধান) জাফর ইকবাল।