সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

গোবিন্দগঞ্জে নিজ চেষ্টায় সাবলম্বী নারী মমতাজ বেগম।

অর্পিতা চ্যাটার্জী, গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২১ জুন, ২০২৫, ৭:০৩ পিএম
গোবিন্দগঞ্জে নিজ চেষ্টায় সাবলম্বী নারী মমতাজ বেগম।
48

অভাব-অনটনের জীবন সংগ্রামে জীবন পার করে এখন সফল নারী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের নারী কৃষি উদ্যোক্তা মমতাজ বেগম। নিজের দরিদ্রতা জয় করার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছেন তিনি। মমতাজ বেগম এখন অনেক নারীর কাছেই অনুকরণীয় হয়ে উঠেছেন। প্রায় অর্ধশত নারীকে আয় বৃদ্ধি মূলক কাজে সাহায্য করে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখিয়েছেন তিনি।

২০১৯ সালে ৬০ জন নারী সদস্য নিয়ে এলাকায় মমতাজ পল্লি উন্নয়ন মহিলা যুব সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের জাতীয় যুব পুরস্কার-২০২৪ লাভ করেন মমতাজ। তার এমন সফলতা অন্য নারীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছেন তিনি।

১৯৯২ সালে মমতাজ বেগম গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের ছোট জামালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকে উদ্যোমী এ নারী ২০০৮ সালে স্থানীয় বাসুদেবপুর চন্দ্র কিশোর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাশ করেন। নানা কারণে পিতার সংসারে থাকা অবস্থায় পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১০ সালে ১০ নভেম্বর দরবস্ত ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে বেলাল হোসেনের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। স্বামীর সংসারে এসে চরম অভাব অনটনের বৃত্তে আটকে পরেন মমতাজ। সংসারের অভাব অনটন থেকে মুক্তি পেতে বাড়িতেই হাঁসমুরগি ও ছাগল পালন শুরু করেন।

এরপর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের মাধ্যমে ২০১৬ সালে গরু মোটাতাজাকরণের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে পর্যায়ক্রমে গাভী পালন, মিষ্টি তৈরি, নার্সারি এবং মৎস্য চাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। এছাড়াও দর্জি বা টেইলারিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি বসে থাকেননি, বাড়িতেই গরু মোটাতাজাকরণ, গাভী পালন, নার্সারি তৈরি, জৈব সার উৎপাদন ও দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষ শুরু করেন। এতে করে বেশ ভালো আয় হয় তার।

অভাব কিছুটা কমলে আবারও পড়ালেখা শুরু করেন মমতাজ। ২০২০ সালে বিশুবাড়ী কারিগরি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। পরে ২০২১ সালে মমতাজ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। যথাযথ পরিকল্পনা ও পরিশ্রমে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে দারিদ্রতা থেকে মুক্ত হয়ে এখন সফল নারী হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন। তার পরামর্শে একই এলাকার শতাধিক নারী কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে।

মমতাজ বেগম বলেন, স্বামীর সংসারে এসে প্রথমে অভাব-অনটন আর দরিদ্রতার মধ্যে দিন কাটিয়েছি। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হয়েছে। সৃষ্টিকর্তার রহমত আর নিজের ইচ্ছাশক্তি ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কঠোর পরিশ্রমে মধ্যদিয়ে আমাদের সফলতা এসেছে। এখন আমরা অনেকটাই স্বাবলম্বী। হাঁসমুরগি ও ছাগল পালন, গাভি পালন ও নার্সারি এবং জৈব সার উৎপাদন করছি। সবসময় স্বামী আমাকে সহযোগিতা করে আসছে। গ্রামে নতুন করে পাকা বাড়ি করছি। গরু পালনের জন্য একটা সেট তৈরির কাজ চলছে। একমাত্র ছেলেকে লেখাপড়া করানো হচ্ছে। গ্রামের অনেক নারীকে নানা ধরনের কাজে সাহায্য করেছি। তারাও এখন আয় করছে দেখে ভালো লাগে। আমি চাই সবাই যেন নিজে কাজ করে আয় করে স্বাবলম্বী হতে পারে। কেউ যেন দরিদ্র হয়ে না থাকে। তিনি মনে করেন, যেকোনো কাজ করার আগে শিখতে হবে এবং পরিকল্পনা করতে হবে।

উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার সত্যরঞ্জন সাহা বলেন, মমতাজ বেগম যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নানা আয় বৃদ্ধিমূলক কাজ করে আজ স্বাবলম্বী ও আত্মকর্মী হয়েছেন। ২০২৪ সালে তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের জাতীয় যুব পুরস্কারও পেয়েছেন। তাকে দেখে অন্য নারীরাও স্বাবলম্বী এবং আত্মকর্মী হবেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, নারীরা এগিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। নারীদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের অগ্রযাত্রায় মমতাজ বেগম অনুকরণীয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের পাশাপাশি নারীদেরকে কৃষি বিষয়ক নানা প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। কৃষি কাজের সাথে যুক্ত হয়ে মমতাজ বেগম তার দরিদ্রতা জয় করতে পেরেছেন। এখন সে স্বাবলম্বী এবং আত্মকর্মী হয়ে উঠেছেন।

জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৫৭ এম
জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের সেবায় খুশি কলাপাড়ার সেবাগ্রহীতাগণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৩২ পিএম
সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের সেবায় খুশি কলাপাড়ার সেবাগ্রহীতাগণ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : কলাপাড়া উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সেবায় দিন দিন বাড়ছে সাধারণ মানুষের সন্তুষ্টি। দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম সেবাগ্রহীতাদের যথাসময়ে সেবা প্রদানের মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ ছিল— আগে দলিল নিবন্ধন, খতিয়ান যাচাই বা জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্রে অযথা দেরি হতো। কিন্তু বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমে এসেছে। তিনি অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থেকে নিজে তদারকি করছেন প্রতিটি কাজ।
একজন সেবাগ্রহীতা রিফাত হোসেন বলেন, “আগে একটি দলিল রেজিস্ট্রেশনে অনেক সময় লেগে যেত। এখন খুব দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে কাজ শেষ হচ্ছে। কর্মকর্তা নিজে আমাদের সাথে কথা বলেন এবং সমস্যার সমাধান করে দেন।”

নতুন অফিস ও দ্রুত সেবা কার্যক্রম:

বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের পর তার হাত ধরে কলাপাড়ায় চালু হয়েছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন অফিস। এখানে সহজ ও দ্রুত পদ্ধতিতে দলিল যাচাই, রেজিস্ট্রেশন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ এখন আগের তুলনায় দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে সেবা পাচ্ছেন।

একজন সেবাগ্রহীতা বলেন, “নতুন অফিসে এসে বুঝতে পারছি কাজ কতটা সহজ হয়েছে, সিস্টেমে দ্রুত কাগজপত্র তৈরি হয়ে যাচ্ছে, অতিরিক্ত ঝামেলা নেই।”

অন্য একজন জানান, “আগে দিনকে দিন ঘুরতে হতো। এখন একদিনেই কাজ শেষ হয়। সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব সবসময় আমাদের কথা শুনেন এবং সাহায্য করেন।”
অন্য একজন প্রবীণ নাগরিক ফুয়াদ হাসান জানান, “আমরা যে সেবা পাওয়ার কথা, তা এখন সহজে পাচ্ছি। সাব-রেজিস্ট্রার সাহেবের ব্যবহারও অত্যন্ত ভদ্র ও আন্তরিক।”
স্থানীয়দের মতে, দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম শুধু সেবাগ্রহীতাদের আস্থা অর্জন করেননি, বরং সরকারি সেবা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়াচ্ছেন।

বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা 

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫, ৩:২০ পিএম
বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা 

বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির (বাকসাস) কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫-২৬) ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক কালবেলার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি এইচ এম সাইফুল ইসলাম সাব্বির ও সাধারণ সম্পাদক মানবজমিনের শিহাব আল নাসিম।

শুক্রবার (২৭ জুন) বাকসাস’র উপদেষ্টা পরিষদ এই কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন করে। এতে সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক সকালের সময়ের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মেহেদী হাসান তাওহীদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজকের কাগজের জিসান আহমেদ কাব্য, সাংগঠনিক সম্পাদক সময়ের কণ্ঠস্বরের এস এম মঈন এবং অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সংগ্রাম প্রতিদিনের আরমানুজ্জামান সৈকত।

এ ছাড়াও কমিটিতে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেইলি ক্যাম্পাসের কাজী আল তাজরীমিন, মানবতার কণ্ঠের রাসেল রানা ও দৈনিক সংগ্রাম প্রতিদিনের শান্তা আক্তার।

আগামী এক বছরের জন্য কার্যনির্বাহী এই কমিটি অনুমোদন করেন বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ও আজকের পত্রিকার সিনিয়র অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক আমানুর রহমান রনি, মোহনার টেলিভিশনের প্রধান প্রতিবেদক এবং বাকসাস’স প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উপদেষ্টা মো. মনিরুল ইসলাম, বাকসাস’র সাবেক সভাপতি এবং এখন টেলিভিশনের অ্যাসিসট্যান্ট নিউজ এডিটর মো. নাজমুল হোসেন এবং বাকসাস’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কালবেলার নিজস্ব প্রতিবেদক (অনুসন্ধান) জাফর ইকবাল।